মাহবুবুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৪ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও দুটি মোবাইল ফোনসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (৯ আগস্ট) রাত থেকে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত পর্যন্ত দিঘলটারী ও কাশিপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটকরা হলেন—লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী গ্রামের রিপন মিয়া (৩৫) এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মো. সবুজ মিয়া (২৫)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দিঘলটারী বিওপির একটি টহলদল। এ সময় সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রিপন মিয়াকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর এলাকায় অভিযান চালায় কাশিপুর বিওপির টহলদল। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে এক ব্যক্তিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তিনিও দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ৯ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সবুজ মিয়াকে আটক করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, দুটি অভিযানে জব্দ করা ৫৪ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ২১ হাজার ৬০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের সিজার মূল্য ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ টাকা।
এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যসহ তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের জন্য তথ্য সংগ্রহ এবং আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply